তাজেমী সেজদার ব্যাপারে অভিমত

 তাহাকে কেবল কিবলা বানানো যায় যাহার মধ্যে স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে..! এটা শুধুমাত্র কিবলা আর অন্য কিছু নয়। পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত আল্লাহ আদমকে সেজদা করতে আদেশ দিয়েছেন সমস্ত ফেরেশতা ও জ্বীনদেরকে এবং তাঁরা আদেশ মান্য করতে বাধ্য।



কেন আল্লাহ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

এছাড়াও তো অনেক করম পথ আছে যা অবলম্বন করে হযরত আদম (আঃ) কে সম্মান প্রদর্শন করা যেতে পারে।


কারণ:

হযরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এলমে লাদুনী আধ্যাত্বিক জ্ঞানের অধিকারী হয়েছেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তখন তাহাকে সম্মানার্থে সমস্ত ফেরেশতাদেরকে সিজদা করতে আদেশ দিয়েছিলেন। এবং তখন তাহাকে অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তার মানে এই নয় যে পৃথিবীর সমস্ত ইনসানই আশরাফুল মাখলুকাত।


সকল আশরাফুল মাখলুকাতরা ইনসান কিন্তু সকল ইনসানরা আশরাফুল মাখলুকাত নয়।


তাহলে আশরাফুল মাখলুকাত কারা..? 

যারা এতক্ষণ আমার পোস্টটি পড়েছেন মন দিয়ে তারা হয়তো বুঝে গিয়েছেন আশরাফুল মাখলুকাত কারা। আশরাফুল মাখলুকাত হচ্ছে তারাই যারা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঐ ইচ্ছা- 


যে ইচ্ছায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছিলেন:-

 "আমি ইনসান এবং জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য" (আল কুরআন)


উক্ত ইচ্ছা পূরণে সর্বদা মনেপ্রাণে সচেষ্ট থাকেন এবং স্রষ্টার প্রতি অনুগত, তাহার (আল্লাহর) আদেশ-নির্দেশ মনেপ্রাণে ধাবন করেন এবং সেই প্রেমের (ঐশী প্রেম) যেই প্রেমে পড়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাহার অস্তিত্ব প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, সেই প্রেমে উপর সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তারাই হচ্ছে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব।


স্রষ্টার ভাষায় বলতে গেলে তারাই সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত, যারা- "স্রষ্টার রঙ্গে রঙ্গিন হয়" অর্থাৎ যাদের হাত-পা, চোখ, কান, জবান, সহ সবকিছু মাওলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায় তারাই হচ্ছে আশরাফুল মাখলুকাত।


আর এই আশরাফুল মাখলুকাত কে সিজদা করতে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন সমস্ত জ্বীনক-ইনসানকে শিক্ষা দিয়েছেন। এই কারণেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন শুধুমাত্র তাহার ইবাদতের জন্য।

এইটা শুধুমাত্র সম্মানার্থে সিজদা ছিলো।


আমি প্রথমেই বলেছি কেন আল্লাহ সম্মান প্রদর্শনের জন্য সেজদা কে বেছে নিয়েছেন....? সেজদা ছাড়া কি অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারত না? সম্মান প্রদর্শনের জন্য?

কারণ:- 

আল্লাহর নিজেই ঘোষণা করেছেন আমি মুমিনদের ক্বলবে থাকি। এখন আসেন মুমিন কারা???


যারা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে পড়েছেন তাদেরকে আর কষ্ট করে বলতে হচ্ছে না যে- আশরাফুল মাখলুকাতরায় আল্লাহর মুমিন বান্দা।(নিঃসন্দেহে)


তাহলে এবার আসেন যাদের ক্বলবে মহান রাব্বুল আলামিন স্বয়ং অবস্থান করেন তাহাদেরকে কি কেবলা বানানো যাবেনা..?


এই ক্ষেত্রে ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই:-

পবিত্র মক্কা যখন স্বাধীন হয়েছিল তখন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আযান দেওয়ার জন্য পবিত্র কাবা শরীফের ঊর্ধ্বে উঠে...! প্রশ্ন হতে পারে কেনই বা কাবা শরীফের উপরে উঠতে হবে আযান দেওয়ার জন্য...?যেখানে নিচে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ অবস্থান করছেন। 


এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রমাণ করলেন যে, যেই কাবা বিধর্মীদের সম্মানের স্থান ছিল সেই সম্মানের ও ঊর্ধ্বে আমাদের ইসলাম। যাইহোক আমি সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। আমার প্রসঙ্গ হচ্ছে যে কাবাকে কেবলা বানিয়ে সমস্ত বিশ্ব জাহানের মুসলিমরা আযান দিত এখন সেই কেবলার উপরে হযরত বেলাল দন্ডিয়মান।


 তিনি এখন কাহাকে কেবলা বানাবেন..? 


এই ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন তাহার দিকে অর্থাৎ প্রিয়নবীর দিকে ফিরে আযান দেওয়ার জন্য অর্থাৎ রাসূলুল্লাহকে কেবলা বানানোর জন্য। কেন রাসুলুল্লাহকে কিবলা বানানো হলো..? কারণ তিনিতো কাবার কাবা, আল্লাহর প্রিয় বান্দা, আল্লাহর বন্ধু, আল্লাহর নবী ও রাসূল, তাহার মধ্যেই তো আল্লাহর অবস্থান, সর্বোপরি তিনিতো আশরাফুল মাখলুকাত। (আধ্যাত্মিকতার বাহিরে)


এর মাধ্যমে হয়তো কিছুটা জানতে পারলেন আশরাফুল মাখলুকাত বা মমিন বান্দা কে কেবলা বানানো যাবে কারণ,তাহার ভেতরে আল্লাহর অবস্থান।


এখন আসি সিজদা কেন করব?

আমি প্রথমেই বলেছিলাম মহান রাব্বুল আলামিন অন্য পদ্ধতি কি অবলম্বন করতে পারতেন না? হযরত আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্মান করার জন্য..?


উত্তরটা তো খুবই সহজ যাহার মধ্যে আল্লাহর অবস্থান হওয়ার কারণে তাহার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ আল্লাহর অঙ্গ-প্রতঙ্গ হয়ে যায় তাহাকে কেবলা বানিয়ে আল্লাহকে সিজদা করা কি ভুল কিছু..?


শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে- যে মমিন বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মধ্যে স্বয়ং আল্লাহ অবস্থান করে তাকে সম্মান করা কি ভুল..?

তাহলে আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান (সিসদাহ) করতে কেন বলেছিলেন ফেরেশতা এবং জিনদেরকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন?


উত্তর ঘুরেফিরে একটাই----- মমিন বান্দা বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মধ্যে আল্লাহর অবস্থান এবং তাহারা সর্বোচ্চ সম্মানের যোগ্য কেননা তাহাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সহ সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ, কথা-বাত্রা, হাঁটা-চলা, সমস্ত কিছু আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।


এতক্ষণ আমার ব্যক্তিগত মতামত উপস্থাপন করলাম কারণ আমি কেন হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী সিজদা করার মাধ্যমে সম্মান করব।



"আমি অনেক মন্দির, গীর্জা, মসজিদ ঘুরেছি, কিন্তু আল্লাহকে কেবল নিজের মধ্যেই অনুধাবন করতে পেরেছি।”

~ মাওলানা জালালুদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (রহঃ)।

"আমরা সবাই যখন অন্ধকারে ছিলাম, তখন মনসুর আল হাল্লাজ ছিল আলো!"


http://irfanurrahman.blogspot.com

http://facebook.com/writerRiyad


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

দেখিতে চাই বাংলা বিদ্রোহী কবিতা || ইরফানুর রহমান

ধর্মীয় সম্প্রীতি| ইরফানুর রহমান

নবুওয়াতের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা | নবুওয়াত কাকে বলে | নবুওয়া এর অর্থ কি কত প্রকার ও কি কি