ধর্মীয় সম্প্রীতি| ইরফানুর রহমান


ধর্ম।আমার ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।পৃথিবীর ৯৫শতাংশ মানুষ আলাদা আলাদা ধর্ম পালন করে।এই ধর্মের মধ্যে রয়েছে আবেগ রয়েছে আলাদা একটা মায়াটান। এই টান টি অবশ্যই স্রষ্টা প্রদত্ত। না হয় এটাকে হার মানাতো দুনিয়ার মায়া। অনেকেই আছে যারা দুনিয়ার মায়া জালে ফেঁসে গিয়েছে। কারণ তারা নফসের শয়তানের সাথে হার মেনেছে, যুদ্ধ করার আগেই।

একটা সময় ছিলো যেখানে সবাই মিলেমিশে একটা পরিবারের সদস্যের মত করে সময় কাটাতো। কিন্তু এখন তার উল্টো।অন্য ধর্মের লোক দেখলেই যেনো মনে হয় সে আমার শত্রু।আমাকে ধ্বংস করার জন্যই এসেছে। কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে সেই আগের ভ্রাতৃত্ব! নিমিষেই লুকিয়ে গিয়েছে সেই ভালোবাসা। 

জৈনক কবি লিখেছেন:-
"গ্রামের নজুয়ান হিন্দু মুসমান
মিলিয়া বাউলা গানের মুর্শিদী গাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম"

আমরা যেনো কোনো এক দখলদারিত্বের ঘূর্ণিতে ঘুরপাক খাচ্ছি। ঘুরতে ঘুরতে কোন সময় যে আমাদের মস্তক সন্ত্রাসবাদের দিকে অবনত হয়ে সমুদ্রের তলদেশের পানির সাথে মিলিত হয়েছে তার নিশানা খুঁজে পাচ্ছি না। সব কিছুরই একটা সীমানা থাকা দরকার। আবেগ ও তার বাহিরে নয়। কারণ আবেগ যখন সীমানা অতিক্রম করে তখনই জন্ম হয় দখলদারিত্বের।

কারণ আবেগ হলো চরিত্রের আয়না। যে যেই আয়না দিয়া দেখে সেই রকম প্রতিফলন ঘটায়। আবেগ এর সীমা অতিক্রম হলে দুইপ্রকার চরিত্র ধারণ করে। একটি হলো আত্মত্যাগীয় অপরটি হলো ধ্বংসাত্মক। যখন কেউ আবেগে রসালো মিষ্টি তীর নিক্ষেপ করে তখন আত্মত্যাগের সূচনা হয়। মিষ্টি আঘাতে মিষ্টি ক্ষোভ জন্মায়। তখন মনে হয় নিজেকে শেষ করে আঘাতকারীকে শাস্তি দেওয়া। আর অন্যদিকে কোনো বিষয়, বস্তু বা নীতির উপর অতি আবেগী হয়ে গেলে মনে হয় সবকিছু তার অধীনে। তার কাছে হার মানতেই হবে শর্তহীনভাবে।মানুষ যখন কোনো বিষয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে যায়, সেই বিষয়ের নিন্দা বা নিন্মগামী সহ্য করতে পারে না। সব সময় সবার উপরে স্থান দিতে চাই। আর যদি বহু সংখ্যক মানুষ এই দলের সদস্য হয়, তাহলে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

এই আবেগ কে কন্ট্রোল করতে যুক্তি চর্চার বিকল্প নেই।

ফেসবুক পেজ লাইক দিন ✍🏻মোহাম্মদ ইরফানুর রহমান

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

দেখিতে চাই বাংলা বিদ্রোহী কবিতা || ইরফানুর রহমান

নবুওয়াতের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা | নবুওয়াত কাকে বলে | নবুওয়া এর অর্থ কি কত প্রকার ও কি কি